আল্লাহর সৃষ্টি ও ঈমান


আল্লাহর সৃষ্টির এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড যে এতো নিখুত নিপুন ও সূক্ষভাবে সৃষ্টি করেছেন তা আমরা একটু গভীর ভাবে চিন্তা করলেই বুঝতে পারি। সৌরজগত সূর্য, চন্দ্র, তাঁরা, জল, বায়ু, জীব, উদ্ভিদ সবকিছুই যে একে অপরের উপর নির্ভরশীল এবং সব যেন এক সাথে একই সুতই গাঁথা। আবার প্রত্যেকে চলেছে তার নিজস্ব গতিতে। পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে ৩৬৫দিনে, আবার পৃথিবী তার নিজ কক্ষপথে ঘুরছে, ২৪ ঘন্টা পর পর রাত ও দিন হচ্ছে। চন্দ্র তারা যথারিতি অমাবস্যা, পুর্ণিমা হচ্ছে। জল-বায়ু গৃষ্মের প্রচণ্ড গরমে এবং তাপে মেঘ গলে বৃষ্টি নামছে। হিমালয় গলে ঢল নামছে ধাবিত হচ্ছে সমুদ্রের দিকে, কখনো নামছে বন্যা। এক সময় এই সমুদ্রের পানিও বাস্প হয়ে আবার উড়ে যাচ্ছে আকাশে। মানুষ সৃষ্টির সেরা আশরাফুল মাখলুকাত। একদিন ভুমিষ্ট হয় নবজাতক শিশু হয়ে, তার পর শৈশব কৈশর ও বার্ধক্যে এসে একদিন অবশ্যই মৃত্যুবরন করতে হয়। আমি মনে করি এই পৃথিবীতে যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে সব কিছুই যেখান থেকে যার উৎপত্তি সেখানেই তার ফিরে যেতে হয়।

আল্লাহ মাটি দিয়ে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন, আবার এই মাটিতেই সব কিছু সমাধি হবে। গৃষ্মের কাটফাটা রৌদ্রের খরতাপে যখন মৃত্তিকা ফেটে চৌচির, তখন আবার এই বৃষ্টির পানিতে মাটি ফিরে পাচ্ছে তার নতুন জীবন এবং হচ্ছে উর্বর। আর যত উদ্ভিদ ও বৃক্ষরাজি ফিরে পাচ্ছে তার প্রানশক্তি। পৃথিবীতে এই গাছ যদি না থাকতো তাহলে মানুষ ও জীব-জন্তু বাচতো না। গাছ অক্সিজেন দেয় তাই মানুষ শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ে বেচে থাকে, আবার আমরা যে কার্বণডাইঅক্সাইড ত্যাগ করি তাই গাছে গ্রহন করে। পৃথিবীতে যত প্রানী, জীবজন্তু ও উদ্ভীদ আছে প্রত্যেকের আহারের ব্যবস্থা একে অন্যের পরিপুরক। এই পৃথিবীকে এত সুন্দর করে সৃষ্টি করা শুধু সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর পক্ষেই সম্ভব। সৃষ্টির সেই ঊষালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত তাঁর সমস্ত সৃষ্টির বিন্দুমাত্র ভুল বা অমিল কোন মহামানব এখনো পর্যন্ত প্রমান করতে পারেনি।

মহান রাব্বুল আলামিন তার রাসুলের প্রতি নাযিল করেছিলেন পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কূরআন। ১৪০০ বছর পরেও আজ পর্যন্ত যার একটি বর্ণও বিকৃত হয়নি! তাই পৃথিবীর একমাত্র নির্ভুল ধর্মগ্রন্থ পবিত্র আল কূরআন! ইসলাম ধর্মের মূল ভিত্তি পাঁচটি। কালিমা, নামাজ, রোজা, হজ্জ ও যাকাত। যা আমদের জন্য ফরয। এই সবগুলো ফরয যদি আমরা আদায় করতে পারি, তাহলে একটু গভীর ভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে এটা আমাদের শরীর, সমাজ, দেশ ও জাতির জন্য অত্যাবশ্যক।

আর রাসুল (সাঃ) যে সমস্ত আমল করতেন যা আমাদের উপর ছুন্নাত, এই সমস্ত ছুন্নাত যেমন – মেছওয়াক অজু গোসল নামাজ ইত্যাদি আমরা যদি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে দেখি তাহলে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে এগুলো আমাদের শরীরের জন্য খুবই দরকার। আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টি ও নিয়ামত আমরা যতই জানার বা বোঝার চেষ্টা করবো, অবশ্যই তার প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় না করে পারবো না। সব প্রশংসার দাবিদার একমাত্র আল্লাহতায়ালা। আর এই সবকিছু বিশ্বাস করার মানেই ঈমান আনা। ইসলাম ধর্মের প্রথম শর্তই হলো ঈমান।
————
মোঃ আবু জাফর

16310_345730208869888_229879480_n

Posted on March 30, 2014, in IJBFBD POST. Bookmark the permalink. Leave a comment.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: