মুক্তিযুদ্ধে উলামাদের অবদান-মুহাম্মদ রায়হান হোসাইন


১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর কুমিল্লার
চান্দিনা থানা যার মাধ্যমে পাক হানাদার
বাহিনীর করাল গ্রাস থেকে মুক্ত হয়
এবং ১৩৯৫ জন পাক আর্মি আত্মসমর্পন
করে উনি হলেন মাওলানা মুখলেছুর রহমান।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ
থেকে প্রকাশিত মাওলানা মুখলেছুর রহমান
এর মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট এর সনদ
ক্রমিক নং ২০২০৬। ১৯৭১
সালে মাওলানা মুখলেছুর রহমান চাদপুরের
কচুয়া মাদ্রাসায় তাফসীরে জালালাইন
পড়তেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু
হয়ে গেলে উনি ভারতে পালিয়ে যান।
ভারতের উদয়পুরের
অদূরে পাটনা ক্যাম্পে ক্যাপ্টেন সুজাত
আলীর নেতৃত্বে উনারা একসাথে ৯০০ জন
ট্রেনিং নেন। ট্রেনিং শেষে উনারা ভারতের
মিয়ার বাজার সীমান্ত দিয়ে চৌদ্দগ্রাম
হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
বাংলাদেশে উনাদের অধিনায়ক ছিলেন
মেজর হায়দার।
ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানা সদর
থেকে ৬ কিলোমিটার
পশ্চিমে পদুরবাড়ি লেংড়া বাজারের
দিকে জয়দা নামক একটি গ্রাম আছে যেই
গ্রামের মাওলানা বাড়ির সবাই
মুক্তিযুদ্ধা ছিলেন। মাওলানা বাড়ির
ছেলে মাওলানা হাবীবুর রহমান চানু
যিনি সরাসরী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন
করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
থেকে গেজেটে প্রকাশিত উনার
মুক্তিনং ১০০৯, মাওলানা হাবীবুর রহমান
চানু বর্তমানে মুক্তাগাছা থানা বাংলাদেশ
মুক্তিযোদ্ধা সংসদের
থানা কমিটিতে আছেন। উনি ময়মনসিংহ
সদরের
চড়পাড়া ক্বওমী মাদ্রাসা থেকে দাওরা হাদিস
পাস করা। মাওলানা বাড়ির জামাই হাফেয
মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আহমদ ভারতীয়
ট্রেনিংপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধা। উনার
মুক্তিযুদ্ধা নং ৯৫২। মুক্তাগাছার
জয়দা গ্রামের মাওলানা বাড়ি ১৯৭১
সালে অনেক হিন্দু পরিবার কে আশ্রয়
দিয়েছিল। মুক্তাগাছা থানার সকল
হিন্দুরা এখনো মাওলানা বাড়ির লোকদের
কাছে কৃতজ্ঞ। মাওলানা বাড়ির সবাই
তাবলীগ জামাতের সাথে যুক্ত।
মাওলানা বাড়ির ছেলে মাওলানা মাহমুদুল
হাসান কাকরাইল মসজিদের একজন মুরব্বী।
ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসা কেন্দ্রিক
যে আলেমদের সংগঠন
আছে “জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ” উনারাও
কিন্তু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের
মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে অনেক
গুলি ফতোয়া দিয়েছিলেন।
“জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ” ১৯৭১
সালে স্পষ্টভাবে পাকিস্তানী হানাদার
বাহিনী যে নির্মম ভাবে পূর্ব
পাকিস্তানি জনগণদেরকে হত্যা করছে এই
ব্যাপারে অনেকগুলি বিবৃতি দিয়েছিল। এই
ফতোয়া গুলি ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত শায়খুল ইসলাম
হযরত হোসাইন আহমদ
মাদানী রহমাতুল্লাহ আলাইহির
যে জীবনী বের হয়েছে সেই বইটির
শেষে পরিশিষ্ট আঁকারে দেয়া হয়েছে। ১৯৭১
সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলার হিন্দু মুসলমান
সকল ধর্ম মত পেশার লোকেরা অংশগ্রহন
করেছিল। বাংলার আলেম সমাজও এর
থেকে দূরে ছিল না। তথাকথিত কিছু
ইসলামী দলের কতিপয় ব্যক্তির
মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের অপকর্ম
কে ভিত্তি করে দয়া করে হক্ক
পন্থী আলেম উলামাদের কে রাজাকার আল
বদর আল শামস বলে গালি দিবেন না।
বাংলার আলেম সমাজ প্রত্যক্ষ ও
পরোক্ষভাবে ১৯৭১ সালের
মুক্তিযুদ্ধে জড়িত ছিল এতে কোন সন্দেহ
নাই।
[তথ্যসূত্রঃ “ আলেম মুক্তিযোদ্ধার
খোজে ”, লেখক যুগান্তর পত্রিকার সাবেক
সাংবাদিক শাকের হোসাইন শিবলী, আল-
ইসহাক প্রকাশনী, ৩৭, নর্থব্রুক হল রোড,
বাংলাবাজার, ঢাকা থেকে প্রকাশিত]
(Collected)

Posted on December 17, 2012, in IJBFBD POST. Bookmark the permalink. Leave a comment.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: