কিছু সত্যকথা


এমন এক যুগ ছিলো যখন মুসলমান তো দূরের কথা হিন্দু পরিবারেরও কোন নারীকে বাড়ির বাইরে বেপর্দায় চলতে দেখা যেত না। আজ বড়ই কষ্টের সাথে বলতে হয় যে, বাড়ির বাইরে বের হলেই নজরে পড়ে যায় নারীর উলঙ্গ দেহ। নারীর সর্বাঙ্গ ঢেকে রাখা ফরয করেছে ইসলাম। বাঘ যেমন হরিনীর নরম গোশতের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে, হরিনীকে ছিড়ে ছিড়ে ভক্ষণ করে। একজন পুরুষের নজরে যখন এক নারীর অনাবৃত কোমল দেহ ফুটে উঠে তখন বাঘ ও হরিনীর মতই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আজ নারীরা যদি তাদের দেহ-সৌষ্ঠব বস্ত্রাবৃত করে রাখতো তবে সারা দুনিয়া থেকে অর্ধেক অশান্তি দূর হয়ে যেত। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় খৃষ্টান নারীরা বস্ত্রহীন দেহকে ফলাও করে দেখায়। আমরা যদি স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচারিত অনুষ্ঠানের প্রতি, ইন্টারনেটের ধ্বংসাত্মক জিনিস গুলোর প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে পর্দা করি, কুরআন পড়ি, নামায পড়ি, এক কথায় দ্বীনের সকল আইন মেনে চলি, তাহলে আমাদের অবস্থার পরবর্তন হবেই।
মানুষ পরিণতির কথা সামান্য ভাবে না। নিশ্চিন্তে স্বীয় খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে চলেছে। আমাকে যিনি জীবন দিলেন, বেঁচে থাকার সব উপকরণ দিলেন, তাকে এভাবে ভুলে যাই কীভাবে? আমরা আসলে আপন ঐতিহ্যই ভুলে গেছি। কয়েক শত বছর আগে এই পাক ভারত উপমহাদেশে মোট জন সমষ্টির শতকরা দুই ভাগ মুসলমানের বসতি ছিল। সেই সময়ই মুসলমান নেতারা প্রতাপের সাথে এই উপমহাদেশ শাসন করেছে। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলার প্রতিটি বৃক্ষ, জীব-জন্তু, বালুকাময় মাটির এক একটি কণাও সেই শাসকদের ভালোবাসত। নারীর শরীরে পর্দার পোশাক শোভা পেতো। সম্মান আর ইজ্জতের কোন কমতি ছিল না। দিনের আলোতে শহর, বন্দর, নগর বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাস্তা-ঘাটে অথবা বসবাসের গৃহের খোলা উঠানেও কোন মুসলমান নারীর চেহারা বেগানা পুরুষের নজরে পড়েনি। আমরা আমাদের ধর্ম থেকে বহু দূরে সরে গেছি। আমরা কুরআনকে পরিহার করেছি, তাই সকালের স্নিগ্ধ সময়ে কুরআনে পাক তিলাওয়াতের সুমধুর সুর শুনতে পাই না। অথচ প্রতিটি মুসলিম গৃহে মহান গ্রন্থ আল কুরআন তিলাওয়াতের ধ্বনিতে মুখরিত হওয়ার কথা ছিল।
অশ¬ীলতার মিছিলে বিশ্ব আজ নির্লজ্জতার পোশাক পরেছে। কুফর ও নিফাকে ইসলামের পতাকা ঢাকা পড়েছে। মুসলিমগণ আজ স্বীয় সত্তা ও ধর্মের ঐতিহ্য ভুলে গেছে।
বিজাতীয় শিক্ষায় শিক্ষিতগণ বিজাতীয় কালচার যেমনÑ জন্মদিবস, মৃত্যুদিবস, বিবাহ-বার্ষিকী, ভালোবাসা দিবস, পহেলা বৈশাখ, শ্রমিক দিবস, ইত্যাদি দিবস এদেশে প্রচলন করার মাধ্যমে স্বীয় মুসলমানিত্বকে ধ্বংস করে দিয়ে নিজেদের জন্য জাহান্নামের রাস্তা সহজ করছে, অন্যকেও সেপথ দেখাচ্ছে।
আল¬াহ তায়ালা আমাদের সকলকে হিদায়েত নসিব করুন!

Posted on December 6, 2012, in IJBFBD POST. Bookmark the permalink. Leave a comment.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: