ধ্যান-মুহাম্মাদ রায়হান হোসাইন


শরীর ও মনের নানা রোগ প্রতিরোধে মনের শিথিলায়ন এবং ধ্যানচর্চার যে বড় ভূমিকা রয়েছে, তা ক্রমেই বিজ্ঞানীদের কাছে স্পষ্ট হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ট্রানসিডেনটাল মেডিটেশন বা তূরীয় ধ্যান বেশ ফলপ্রসূ। ৭০ বছর বয়সী একজন মহিলা ধ্যানচর্চা শুরু করলেন। তাঁর ধমনিপথ অনেকটা রুদ্ধ, উচ্চরক্তচাপ এবং তলপেটে মেদ—এসব ঝুঁকি তাঁর ছিল। ভদ্র মহিলার ১০ বছর পেরিয়েছে, তিনি এখন দিনে দুবার ধ্যান করেন, প্রতিবার ২০ মিনিট। বড় রকমের একটি হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর যিনি বেঁচে উঠলেন, করোনারি বাইপাস সার্জারি ও দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকার পর তিনি এখন শরীর ও মন শিথিলায়নে রত। তিনি বলেন, ‘মনে এখন অনেক কিছুর তোলপাড়, সবকিছু ভুলে ধ্যান করুন, নিজের জীবন হবে লাবণ্যময়।’ যে সমস্যা ছিল বলে মনে করেন, তা হয়তো থাকবে না। মনের শিথিলায়নের কোনো সুফল কি শরীরের ওপর পড়ে? সেই ভদ্র মহিলার ক্ষেত্রে সুফল পড়ে ছিল। তাঁর রক্তচাপ এসেছিল নিয়ন্ত্রণে, ওষুধ যদিও খান তবু নিয়ন্ত্রণে আছে এও কম নয়, তিনি ওজন কমিয়েছেন ৭৫ পাউন্ড। আমেরিকার ওরল্যান্ডোতে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে এসব গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল। বলা হচ্ছে: তূরীয় ধ্যান, অর্থাত্ চেতনার স্তর থেকে বেরিয়ে কিছুক্ষণ উচ্চমার্গে থাকা—এতে বেশ লাভ হয়।
হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভায় নভেম্বরের
শেষ সপ্তাহে এসব গবেষণার ফলাফল
প্রকাশ করা হয়েছিল। বলা হচ্ছে: তূরীয়
ধ্যান, অর্থাত্ চেতনার স্তর
থেকে বেরিয়ে কিছুক্ষণ
উচ্চমার্গে থাকা—এতে বেশ লাভ হয়। এ
ধরনের ধ্যান করার জন্য বড়
প্রস্তুতি লাগে না, চেষ্টা করলে সম্ভব।
নীরবে বসে চোখ বুজে একটি বিশেষ
শব্দ বারবার মনে মনে উচ্চারণ
করতে করতে গভীর ধ্যান
করা এবং এভাবে মগ্ন হওয়া, শান্তির
জগতে ভ্রমণ করাই তূরীয় ধ্যান। যাদের
স্বাস্থ্যঝুঁকি খুব
বেশি এবং করোনারি হূদরোগ রয়েছে,
তাদের জন্য এমন ধ্যানচর্চা বেশ ফলপ্রসূ।
ধ্যানচর্চা অবশ্য চিকিত্সা বা ওষুধের
বিকল্প নয়, ওষুধের সঙ্গে একে যুক্ত
করলে হিতকর ফলাফল অনেক বেড়ে যায়।
২০০ জন রোগীকে পাঁচ বছর অনুসরণ
করে গবেষকেরা দেখলেন, উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন
রোগী যাঁরা ধ্যান করছিলেন, তাঁদের
হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি,
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি ও সার্বিক
মৃত্যু প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছিল। এই
তুলনাটি করা হয়েছিল আরেক দল
রোগীর সঙ্গে, যাঁদের স্বাস্থ্যকর খাদ্য
এবং জীবনযাপন সম্বন্ধে শিক্ষাদান
করা হয়েছিল।
১০০ জন
রোগী যাঁরা ধ্যানচর্চা করেছিলেন,
তাঁদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক,
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং মৃত্যুর
ঘটনা ঘটেছিল ২০টি।

Posted on December 4, 2012, in স্পর্শকাতর কথা. Bookmark the permalink. Leave a comment.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: